বাঁচতে হলে জানতে হবে রক্তনালীর
সমস্যা ও চিকিৎসা
রক্তনালী বলতে কি বুঝায়?
শরীরের যে পথে রক্ত চলাচল করে তাকে রক্তনালী বলে। হার্ট থেকে যে রক্তনালী সারাদেহে রক্তে নিয়ে যায় তাকে ধমনী আর সারাদেহ থেকে যে রক্তনালী হার্টে রক্ত নিয়ে আসে তাকে শিরা বলে।
কি কি কারণে রক্তনালীর রোগ হয়?
- ধুমপান
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
- রক্তে উচ্চ মাত্রার চর্বি (কোলেস্টেরল)
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
- অলস জীবন যাপন
- দীর্ঘ সময় ধরে দাড়িয়ে থাকতে হয় এমন কাজসমূহ
- দূর্ঘটনা জনিত
- জন্মগত
কি কি উপসর্গ হলে
রক্তনালীর ডাক্তার দেখাবেন?
- পায়ের শিরাগুলো ফুলে আঁকাবাঁকা হয়ে গেলে।
- ডায়ালাইসিসের জন্য ফিস্টুলা অপারেশনের প্রয়োজন হলে।
- হাটতে গেলে পায়ের মাংস পেশীতে খিল ধরে ব্যাথা হলে।
- হাত ও পায়ের রক্তনালীতে ব্লক ধরা পড়লে।
- আঙ্গুল কিংবা হাত ও পায়ের অংশ হঠাৎ কালো হয়ে গেলে।
- হঠাৎ করে পা ফুলে গেলে।
- শরীরের রক্তনালীতে কোন টিউমার থাকলে।
- দুর্ঘটনায় রক্তনালী কেটে বা ছিঁড়ে গেলে।
- পায়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আলসার বা ঘা থাকলে।
- সব সময় মাথা ঘুরালে বা হঠাৎ চোখে অন্ধকার দেখলে।
- রক্তনালীর ডপলার (ইএসজি) পরীক্ষা করা প্রয়োজন হলে।
- হাত ও পায়ের রক্তনালীর অ্যানজিওগ্রাম করা হলে।
- পায়ে হঠাৎ তীব্র ব্যাথা ও ঠান্ডা হয়ে গেলে।
রোগ নির্ণয়ে আমাদের অনন্য প্রযুক্তি
ডপলার
রক্তনালীর আল্ট্রাসনোগ্রাম কে ডপলার বলে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তনালীর রোগ সম্পর্কে সুন্দর ধারনা পাওয়া যায়।
CT অ্যানজিওগ্রাম
রক্তনালীর নন ইনভেসিভ (কাটা ছেড়া বিহীন) পরীক্ষা যা দিয়ে রক্তনালীর কত অংশ ব্লক আছে সুন্দরভাবে ধারনা পাওয়া যায়। রক্তনালীর ছবি তোলা যায় ও চিকিৎসার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
এমআরআই (MRI) ও MRA
জন্মগত রক্তনালীর টিউমার ও শিরার সমস্যা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় এ পরীক্ষার মাধ্যমে।
লেজার/আরএফএ এর মাধ্যমে ভ্যারিকোস ভেইন বা
আঁকাবাঁকা রক্তনালীর চিকিৎসা
লেজার (LASER) কি?
লেজার (LASER-Light Amplification by Stimulated Emission of Radiation) এক ধরনের লাইট যার মাধ্যমে আঁকাবাঁকা শিরা শুকিয়ে দেওয়া হয়। ফলে চিকিৎসার দিন থেকেই আঁকাবাঁকা রক্তনালী আর দৃশ্যমান হয় না।
লেজারের/আরএফএ এর মাধ্যমে
চিকিৎসার সুবিধা
- কোন কাটাছেড়াঁর দরকার হয় না। তাই সেলাইয়ের প্রয়োজন পড়ে না।
- অপারেশন পরবর্তী সময়ে সামান্য ব্যথা অনুভব হয়।
- এতে কোন দাগ থাকে না।
- চিকিৎসা শেষে দ্রুত সময়ে বাড়ি ফেরা যায়।
- চিকিৎসার পর দ্রুত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান করা যায়।
- এক সাথে দুই পায়ে আঁকাবাঁকা শিরার চিকিৎসা করা যায়।
রক্তনালীর ব্লক সমস্যা ও বাইপাস
রিং বা স্টেন্ট কি?
এটা ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরী এক ধরণের পাইপ। বিভিন্ন সাইজের রক্তনালী অনুযায়ী এটা বিভিন্ন সাইজের তৈরী করা হয়। এটা এমনভাবে তৈরী করা হয় যাতে রক্তনালীতে বসিয়ে দেয়ার পর সুন্দরভাবে রক্তনালীর গায়ে লেগে থাকে।
রিং বসানোর সুবিধা?
- কাটাছেঁড়ার দরকার হয় না।
- পূর্ণ অবশ (জেনারেল/রিজিওনাল অ্যানেসথেসিয়া) করার দরকার হয় না।
- হাসপাতালে কম সময় থাকতে হয়।
- রিং বসানোর পুরো প্রক্রিয়া রোগী নিজে বা তার আত্মীয় স্বজনরা মনিটরের মাধ্যমে অবলোকন করতে পারে।
- কাটাছেঁড়ার চেয়ে অনেক কম সময়ে রিং বসানো যায়।
- ইনফেকশনের সম্ভাবনা কম।
- এছাড়া রক্তনালীর ব্লকের সমস্যা বেশী জটিল হলে কখনও কখনও রক্তনালীর বাইপাস অপারেশনের প্রয়োজন হয়।
কিডনী ডায়ালাইসিস রোগীদের
ফিস্টুলা অপারেশন
ফিস্টুলা কি?
কোন কারণে শিরা এবং ধমনীর মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হলে তাকেই ফিস্টুলা বলে। কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস-এর সুবিধার্থে কৃত্রিম উপায়ে অর্থাৎ ব্যথামুক্ত উপায়ে খুবই সুক্ষ একটি অপারেশন-এর এ মাধ্যমে ধরনের ফিস্টুলা করা হয়। মূলত: হাতের কব্জি ও বাহুতে, এছাড়া পায়েও ফিস্টুলা করা যায়।
ফিস্টুলার সুবিধাসমূহ
- ডায়ালাইসিস-এর জন্য পর্যাপ্ত রক্ত সংগ্রহ করা যায়।
- ডায়ালাইসিস করার সময় খুব সহজে রক্ত সংগ্রহের জন্য ফুটো করা সম্ভব হয়।
- বাহির থেকে ধমনী বা শিরা সহজে চেনা যায়।
- ডায়ালাইসিস করার সময় রোগীর ব্যথা কম হয়।
রক্তনালীর
জরুরী অপারেশন
কিছু কিছু ক্ষেত্রে জরুরী ভিত্তিতে রক্তনালীর অপারেশন করতে হয়। অন্যথায় অঙ্গহানি থেকে শুরু করে জীবনহানি পর্যন্ত হতে পারে। মনে রাখা দরকার দূর্ঘটনার ৬ ঘন্টার মধ্যে অপারেশন করলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এজন্য, দূর্ঘটনার পরের ৬ ঘন্টাকে সোনালী সময় বা Golden Hour বলা হয়।